একজন স্বয়ংসম্পূর্ণ ফুল স্ট্যাক ওয়েব ডেভেলপার হতে গেলে যা যা শিখতে হবে এবং যেভাবে শিখতে হবে তার পরিপূর্ণ গাইডলাইন
ফুল স্ট্যাক ওয়েব ডেভেলপার মানে হলো, যারা ওয়েব ডিজাইন এবং ডেভেলপমেন্ট দুটোতেই সমান পারদর্শী। এটার মূলত তিন লেভেলঃ-
যা যা শেখা লাগবেঃ
ওয়েব ডিজাইনঃ
১. এইচটিএমএল ৫ - HTML 5
২. সিএসএস ৩ - CSS 3
* এতটুক দিয়েই একটি JPG to HTML রেস্পন্সিভ ওয়েবসাইট ডিজাইন পিওর সিএসএস দিয়ে করতে হবে
৩. বুটস্ট্র্যাপ ৪ - Bootstrap 4
৪. এডোবি ফটোশপ - Adobe Photoshop
* এই অংশে একটি PSD to HTML রেস্পন্সিভ ওয়েবসাইট ডিজাইন বুটস্ট্র্যাপ দিয়ে করতে হবে
৫. জাভাস্ক্রিপ্ট - Javascript (এই অংশে প্রোগ্রামিং শিখবেন না, শুধুমাত্র ডোম মেনিপুলেশন এবং ইভেন্ট হ্যান্ডলিং গুলো শিখবেন)
৬. জেকুয়েরি ৩ - JQuery 3 থার্ড পার্টি প্লাগিন
* এই অংশে নিজেদের জন্য একটি পোর্টফলিও ওয়েবসাইট ডিজাইন করবেন উপরোক্ত সব কিছুর মিশ্রনে
ওয়েব ডেভেলপমেন্টঃ
৭. সি প্রোগ্রামিং - C Programming
প্রোগ্রামিং-এর ভিত্তিতে সম্পূর্ন ওয়েব ডেভেলপমেন্ট অংশটি হওয়ার কারনে যারা প্রোগ্রামিং এ একদমই নতুন এবং অজ্ঞ, তাদের জন্য আমার মতে আগে সি প্রোগ্রামিং শেখা উচিত
৮. মাইএসকিউএল - MySQL
৯. পিএইচপি - PHP (এই অংশে শুধু স্ট্রাকচারাল প্রোগ্রামিং-ই শিখবেন)
এবার অনেকেই ভাবছেন, ডেভেলপমেন্ট করার জন্যে তো পিএইচপি হলেই চলবে, একই অংশে দুটো ( সি & পিএইচপি) প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ কেন? অনেকেই পিএইচপি দিয়ে ডেভেলপমেন্ট শেখার পর অন্য কোনো প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ প্রজেক্ট বা অফিসের খাতিরে শেখার প্রয়োজন হলে, তারা ভয়ে পিছপা হয়ে যায়। কেননা অন্যান্য ল্যাঙ্গুয়েজগুলো পিএইচপি'র মতো ফ্লেক্সিবল আর সহজ না। কিন্তু আমি চায়, সবারই একজন ভার্সেটাইল প্রোগ্রামার হওয়া উচিত, যাতে কোনো স্তরে গিয়ে কাউকে থমকে যেতে না হয়। এবং এই জন্যেই আমি মনে করি আগে সি শিখে তারপর পিএইচপি শেখা উচিত।
১০. এজাক্স - Ajax
* ওয়েব ডিজাইন ডেভেলপমেন্টের উপরোক্র সবগুলো সেগমেন্ট শেষ করে এবার সময় এসেছে একটি মেগা কম্বো প্রজেক্ট তৈরি করার। তাই এই অংশে এসে নিজেদের জন্য একটি কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম তৈরি করবেন
এই স্টেজে এসে আপনি চাইলে নিজেকে ওয়েব ডিজাইনার ডেভেলপার বা ফুল স্ট্যাক ওয়েব ডেভেলপার বলতে পারবেন এবং সার্কুলার খুজে জবও পেয়ে যাবেন ইনশাআল্লাহ, কিন্তু আপনি হচ্ছেন এখন একজন লো লেভেল ওয়েব ডেভেলপার।
এবার আমরা দেখব আপনাকে মিড লেভেল ওয়েব ডেভেলপার হওয়ার আরো কি কি শেখা লাগবেঃ
১১. পিএইচপি - PHP ( এই অংশে অবজেক্ট ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিং শিখবেন )
* এবার একটি সোস্যাল মিডিয়া ওয়েবসাইট ডিজাইন করে তারপর পিএইচপি তে অবজেক্ট ওরিয়েন্টেড এপ্রোচে তা ডেভেলপ করবেন
১২. MVC
* এই অংশে নিজেদের জন্য Custom MVC Framework বানিয়ে ব্যাসিক ফাংশনালিটির একটি প্রজেক্ট তৈরি করবেন
১৩. লারাভেল - Laravel
* লারাভেল শিখেই একটি Human Resource Management System তৈরি করতে পারেন
১৪. এপিআই - API
* বিভিন্ন ধরনের API শিখে ছোটখাট প্রজেক্ট বানিয়ে সেগুলো ইমপ্লিমেন্ট করতে হবে
১৫. গিট - Git
এখন আপনি এমন এক স্টেজে পৌছে গেছেন যেখানে নিজেকে একজন মিড লেভেল ফুল স্ট্যাক ওয়েব ডেভেলপার হিসেবে দাবী করতে পারবেন এবং সার্কুলার অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নতুন যা যা শেখার প্রয়োজন খুবই অল্প দিনেই আয়ত্বে নি আসতে পারবেন।। যেহেতু এখন আপনি নতুন যে কোনো কিছু শিখতে প্রস্তুত আপনার জন্য নেক্সট লেভেলে যাওয়া শুধু সময়ের ব্যাপার এবং এক্সপেরিয়েন্স অগ্রাধিকারযোগ্য
উপরের সব স্টেপ কমপ্লিট করে আসলে, আপনার কাছে জব ইন্টারভিউতে দেখানোর জন্য যা যা থাকবেঃ
১. JPG to HTML Website
২. PSD to HTML Website
৩. Portfolio Website ( মূলত এটা এমনভাবে ডিজাইন করতে হবে, যাতে পরবর্তীতে সেখানে নিজের করা সব প্রজেক্ট সাজিয়ে রাখা যায় এবং তা জব ইন্টারভিউয়ে অতি গর্বের সহিত দেখানো যায় )
৪. Content Management System( মূলত এটা এমনভাবে ডিজাইন & ডেভেলপ করতে হবে, যাতে সেটাকে নিজস্ব ব্লগ হিসেবে ব্যবহার করা যায় এবং বিভিন্ন আর্টিকেল পাবলিশ করা যায় )
৫. Social Media Website ( এটাও এমনভাবে ডিজাইন & ডেভেলপ করতে হবে, যাতে সেটাকে ব্লগ ফোরাম বা ফেসবুকের মতো ফিচার'স সম্বলিত ওয়েবসাইট হিসেবে ব্যবহার করা যায় )
৬. Customized MVC Framework
৭. Human Resource Management System ( এই সিস্টেমটিও এমনভাবে ডিজাইন & ডেভেলপ করবেন, যাতে এটা দিয়েই বিভিন্ন কোম্পানীর সমগ্র হিসাবনিকাশের কাজ করে ফেলা সম্ভব হয় )
৮. Mini Projects of Various API
এছাড়াও ছোটখাট আরো অনেক প্রজেক্ট বিভিন্ন টপিক রিলেটেড বানিয়ে সেগুলো গিটের মাধ্যমে ম্যানেজ করবেন এবং ইন্টারভিউতে এসব শো করাবেন
শিখবেন কোত্থেকেঃ
টপিক স্পেসিফিক ধরে ধরে ইউটিউবে ভিডিও টিউটোরিয়াল অথবা গুগল সার্চ করে বিভিন্ন অনলাইন কোর্সও করতে পারেন। যদি খুজে না পান কমেন্টে জানান অথবা গ্রুপে পোষ্ট করুন। কোর্স সেন্টারে যাবেন একদম শেষ পর্যায়ে এসে যখন দেখবেন টিউটোরিয়াল দিয়ে আপনার শেখার ঘাটতি পূরন হচ্ছে না
শিখতে কত সময় লাগবেঃ
যদিওবা কোনোকিছু শেখা একজন ব্যক্তির নিজস্ব শিখনক্ষমতার উপর নির্ভর করে, তবুও যে কেউ যদি প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময় নিয়ে ধাপে ধাপে কাজগুলো শিখে তবে তার ৬মাস বা ১বছর লাগতে পারে। ইন্টারমিডিয়েট ২ বছর, ডিপ্লোমার ৪ বছর অথবা বিএসসির ৩-৪বছর যে কোনো পিরিয়ডে গিয়েই পড়ালেখার পাশাপাশি স্কিলগুলো ডেভেলপ করে ফেলতে পারলে, ফাইনাল শেষে জবের জন্য তাকে খুব বেশিদিন বসে থাকতে হবেনা
এনাউন্সমেন্টঃ
খুব শিঘ্রই পোস্টের মতো সাজানো গোছানো একটি কমপ্লিট ভিডিও কোর্স আপনাদের সবার জন্য ফ্রিতে অবমুক্ত করব, যেখানে উপরোক্ত সবগুলো টপিক এবং প্রজেক্ট ধাপে ধাপে তৈরি করা শেখানো হবে। কোর্সটি আমি ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড দিব কিন্তু তার আগে আপনারা কিছু নাম সাজেস্ট করুন যেটা আমি চ্যানেলের নাম হিসেবে দিতে পারব। অন্য কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকলে চলে আসুন কমেন্ট বক্সে।






0 comments:
Post a Comment